সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

করোনা ভাইরাস: এনজিও ঋণ আদায় বন্ধের দাবি গ্রাহকদের

স্টাফ রিপোর্টার।। করোনাভাইরাস নিয়ে যখন বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষজন আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিনপার করছে, ঠিক তখনও বেসরকারি সংস্থা আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, ব্রাক, আম্বালা, শক্তি ফাউন্ডেশন, এসএসএস প্রভৃতি এনজিওগুলো তাদের বিতরণ করা ঋণের কিস্তি তোলা বন্ধ করেনি। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। করোনাভাইরাস আতঙ্কে মানুষ এক প্রকার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। খেটে খাওয়া দিনমজুর কাজে যেতে পারছে না। আয় রোজগার বন্ধে সংসার নির্বাহ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ব্যবসায় লোকসান গুনছে মুন্সীগঞ্জের মিনি পোশাক শিল্পের মালিকগন। এর মধ্যেও তাদের তাড়া করে চলেছে এনজিও’র কিস্তি। ক্ষুদ্রঋণের কথা মাথায় নিয়ে দিশেহারা। কাকডাকা ভোরে এনজিও’র কিস্তি আদায়কারীরা বেরিয়ে পড়েন। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আর রক্ষা নেই। যেভাবেই হোক কিস্তির টাকা তাদের চাইই। জেলার অনেকে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও সমিতির ঋণের কিস্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা কাজ বন্ধের কথা মনে হলে ঋণের কিস্তি শোধের চিন্তায় কপালে ভাজ পড়ছে সাধারণ মানুষের। সদর এলাকার মিনি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী আলম দেওয়ান জানান, আমাদের নিজেদের কোনো টাকা নেই। অধিকাংশ গার্মেন্টস মালিক সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন । করোনার প্রভাবে ব্যবসা বানিজ্য নেই। কিন্ত এনজিওর কিস্তি বন্ধ না হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। শ্রমিক রিটন মিয়া বলেন, আমাদের তো কাজ করলে পেটে ভাত জোটে, না করলে জেটে না। আমরা কীভাবে ঘরে থাকবো? এর ওপর কমবেশি কিস্তি আছে সবার। সরকারের কাছে অনুরোধ ভাইরাস যতদিন না যায় ততদিন অন্তত আমাদের কিস্তিটা বন্ধ রাখুন। একদিকে করোনার আতঙ্ক তার ওপর কিস্তির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়বো। রামপাল এলাকার নুরি বেগম বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য দুটি সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছি । সেখানে একটিতে সপ্তাহে ১ হাজার ৬০০ শ’২০ টাকা ও অপরটিতে ১ হাজার ৫শ টাকা কিস্তি দিতে হয়। রিকসা চালক কবির বলেন, এই সংকটের সময়ে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গতকাল সোমবার আমাকে কিস্তির টাকা দিতে হয়েছে। এই সময় কিস্তি বন্ধ হলে আমাগো ভাল হইতো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মাঠ পর্যায়ের এনজিও কর্মী জানান, ঋণ বিতরণ করার পর উত্তলন করার দায়িত্ব আমাদের। কেউ কিস্তি না দিলে পকেট থেকে অফিসকে দিতে হয়। সরকার এখনো তেমন কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তাই আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকতাগণ পদক্ষেপ নিতে পারেননি। করোনার বিস্তার রোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। এই একই চিত্র বিরাজ করছে মুন্সীগঞ্জসহ দেশের সর্বত্রে। বিশিষ্টজনদের দাবি এখনি দরকার করোনার ভয়াবহতা কেটে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ক্ষুুদ্র ঋণ আদায় বন্ধে এনজিও ব্যুরোসহ সরকারের নির্দেশনা। মুন্সীগঞ্জ ব্যাক এনজিও কো-অর্ডিনেটর মো: ফিরোজ জানান, আমরা গত ২০ তারিক হতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণ আদায় করছি না। তবে তাদের বাড়িতে গেলে কেউ যদি দেয় তা গ্রহণ করছি। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: ফারুক আহাম্মেদ সভ্যতার আলোকে বলেন, করোনার প্রভাবে ক্ষুদ্র আয়ের মানুষেরা কিস্তি দিতে অক্ষম হয়ে পড়বে। তাই এনজিওগুলোকে মানবিক কারণে কিস্তি আদায় থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।