সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

মেহেদি রানা-রুবেলের দারুণ বোলিংয়ে শেষ চারে চট্টগ্রাম

ব্যাটিং বান্ধব উইকেটের বিপিএলে হঠাৎই একটু ভিন্ন স্বাদ। সিলেট পর্বের শেষ দিনে দেখা গেল ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন উইকেট। সহায়ক উইকেটে জ্বলে উঠলেন মেহেদি হাসান রানা ও রুবেল হোসেন। বাকি কাজ সারলেন তাদের ব্যাটসম্যানরা। খুলনাকে হারিয়ে সবার আগে শেষ চার নিশ্চিত করল চট্টগ্রাম।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে খুলনা টাইগার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ১০ ম্যাচে সাত জয়ে তারা নিশ্চিত করে ফেলল ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের জায়গা।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার খুলনা গুটিয়ে যায় ১২১ রানে। চট্টগ্রাম জিতেছে ১১ বল বাকি রেখে।

মেহেদি রানা ও রুবেল নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। বোলিং ফিগার যদিও ভালো রুবেলের, তবে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা মেহেদি রানা।

সিলেটের উইকেটে এদিন গতি ছিল দুইরকম। বল কোনোটি লাফিয়ে উঠেছে, কোনোটি নিচু হয়েছে অনেক। তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসেই জোড়া ছোবলে খুলনাকে নাড়িয়ে দেন মেহেদি রানা।

নিজের প্রথম বলেই বাঁহাতি পেসার ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজকে। একই ওভারে ধরেন আরেকটি শিকার। হাশিম আমলার বিপিএল অভিষেক থামিয়ে দেন ৮ রানেই।

পরের ওভারেই রুবেলের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন শামসুর রহমান। খুলনার রান তখন ৩ উইকেটে ১৪।

সেই বিপর্যয়ের মধ্যেই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিজেদের জাত চেনান রাইলি রুশো ও মুশফিকুর রহিম। গড়ে তোলেন জুটি। এগিয়ে নেন দলকে।

তবে দুজনই কাজ অর্ধসমাপ্ত রেখে আউট হন বাজে শটে। ভালো খেলতে খেলতেই জিয়াউর রহমানকে রিভার্স খেলতে গিয়ে মুশফিক বোল্ড হয়ে যান ২৪ বলে ২৯ করে।

রুশোর ব্যাটে এরপরও এগিয়ে যাচ্ছিল খুলনা। কিন্তু ফিফটির কাছে গিয়ে স্টাম্প সোজা বল লেট কাট করতে গিয়ে তিনি হয়ে যান বোল্ড। দুটি করে চার-ছক্কায় ৪৮ করেন ৪০ বলে।

এরপর আর সেভাবে রান আসেনি। ১৫ রানের মধ্যে খুলনা হারায় শেষ ৬ উইকেট। দলের শেষ ৫ ব্যাটসম্যান মিলে করেন ৮ রান।

রুবেল ও মেহেদির ৩টি করে উইকেটের পাশাপাশি কার্যকর বোলিংয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন কেসরিক উইলিয়ামস। মেহেদি রানা আবার উঠে গেছেন উইকেট শিকারির তালিকার শীর্ষে। তার উইকেট এখন ১৭টি, মুস্তাফিজুর রহমানের ১৬টি।

উইকেট বিবেচনায় পুঁজি খুব ছোট ছিল না খুলনার। অন্তত লড়াই করার মতো ছিল তো বটেই। কিন্তু তাদের বোলাররা পারেনি উইকেটের সহায়তা কাজে লাগাতে।

রান রেটের চাপ ছিল না চট্টগ্রামের সামনে। খুলনার বোলাররা প্রায় প্রতি ওভারেই দু-একটি আলগা বল করে আরও কমিয়ে দেন চাপ। লেন্ডল সিমন্স ও জুনায়েদ সিদ্দিক ১০ ওভার খেলে গড়ে ফেলেন ৬৯ রানের জুটি।

২৮ বলে ৩৬ রান করে সিমন্স বিদায় নিলে ভাঙে জুটি। দুর্দান্ত ফিরতি ক্যাচ নেন এক বছর পর মাঠে নামা অফ স্পিনার আলিস আল ইসলাম।

গত বিপিএলে হ্যাটট্রিক করে চমক জাগানিয়া অভিষেকের পর বিপিএলে আরও তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন আলিস। পরে প্রশ্নবিদ্ধ হয় তার অ্যাকশন, চোট পেয়ে লম্বা সময়ের জন্য চলে যান মাঠের বাইরে। অ্যাকশন শুধরে, ফিট হয়ে এই ম্যাচ দিয়ে আবার ফিরলেন মাঠে। বোলিংও করেছেন ভালো।

উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর খুলনা চেষ্টা করে লড়াইয়ের। এক প্রান্ত আগলে রাখা জুনায়েদ সিদ্দিককে বিদায় করেন মিরাজ। মিডল অর্ডারে আসেলা গুনারত্নে ও চাডউইক ওয়াল্টনকে ফেরান রবি ফ্রাইলিঙ্ক।

লড়াই তখন কিছুটা জমে ওঠার ইঙ্গিত। কিন্তু চোট কাটিয়ে ফেরা ইমরুল কায়েস পথ হারাতে দেননি দলকে। দুটি করে চার ও ছক্কায় ২৭ বলে অপরাজিত ৩০ করে চট্টগ্রাম অধিনায়ক ফিরেন জয় সঙ্গে নিয়ে।  -বিডি নিউজ

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

খুলনা টাইগার্স: ১৯.৫ ওভারে ১২১ (মিরাজ ৪, আমলা ৮, রুশো ৪৮, শামসুর ০, মুশফিক ২৯, ফ্রাইলিঙ্ক ১৭, ইয়ামিন ০, আলাউদ্দিন ১, শফিউল ৩*, তানভির ৩, আলিস ১; রুবেল ৩.৫-০-১৭-৩, নাসুম ৩-০-১৮-০, মেহেদি রানা ৪-০-২৯-৩, উইলিয়ামস ৪-০-২১-২, জিয়া ৩-০-২২-১, গুনারত্নে ২-০-১৪-০)। 

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ১৮.১ ওভারে ১২৪/৪ (সিমন্স ৩০, জুনায়েদ ৩৮, ইমরুল ৩০, গুনারত্নে ০, ওয়ালটন ৭, সোহান ৬* ; ইয়ামিন ৪-০-২৯-০, ফ্রাইলিঙ্ক ৪-০-২০-২, শফিউল ৩-০-২২-০, আলিস ৪-০-২৭-১, আলাউদ্দিন ১-০-৮-০, মিরাজ ১-০-১০-১, রুশো ১.১-০-৭-০)।

ফল: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মেহেদি হাসান রানা