সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনই লক্ষ্য আমাদের: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকেই বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে দেশ সেবা করে যাচ্ছি। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনই লক্ষ্য আমাদের, নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন নয়।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের ইয়ুথ ক্লাব মাঠে আয়োজিত আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্ত্যবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে বিদেশে বাংলাদেশের নাম শুনলে মানুষ নাক সিটকাতো। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পানির সমস্যার সমাধান করেছে। কিন্তু এই পানির প্রত্যেক লিটার পরিশোধন করতে অনেক অর্থ ব্যয় হয়। তাই পানির যাতে অপচয় না হয়, সেদিকে সবার লক্ষ্য রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বিদ্যুৎ সমস্যারও সমাধান করা হয়েছে। ৩ হাজার মেগাওয়াট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণ করা হয়েছে। নতুন নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা মাটির নিচ দিয়ে করা হচ্ছে, যাতে ঝড় কিংবা অন্য কোনো কারণে বৈদ্যুতিক লাইনের কোনো ক্ষতি না হয়।

এ সময় সবাইকে বিদ্যুতের অপচয় রোধের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, বিদ্যুৎ অপচয় করা যাবে না, সাশ্রয় করতে হবে। তাহলে নিজেদের বিদ্যুৎ বিলও বাঁচবে, দেশেরও উন্নয়ন হবে।

তিনি বলেন, ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে মেট্রো রেল করা হচ্ছে। পাতাল রেল স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মানুষের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের জন্য ইউনিয়নগুলোকে সিটি করপোরেশনের আওয়াভুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা সিটিকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। ঢাকার আশপাশে ছোট ছোট শহর গড়ে তোলা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক-বীমা বেসরকারি করণ করা হয়েছে। ১০০টি শিল্পাঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হয়। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। ৪৪টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ৩৩টি চালু আছে। সেগুলোতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি ১৬০০ থেকে ৮ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, শুধু অর্থশালী নয়, হতদরিদ্রদের দিকেও আওয়ামী লীগের দৃষ্টি আছে। ঢাকার বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। বস্তিগুলোতে বহুতল ভবন তৈরি করা হবে। সেই ফ্ল্যাটের ভাড়া দৈনিক, মাসিক বা বাৎসরিক ভাবে পরিশোধ করা যাবে। যার যেভাবে সুবিধা হবে সেভাবেই ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যেক মানুষেরই জীবনমান বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে একজন দিনমজুর সারা দিনের আয় দিয়ে ২-৩ কেজি চাল কিনতে পারতো, এখন ৮-১০ কেজি চাল কিনতে পারছে; মাছ কিনতে পারছে। আর এসব সম্ভব হয়েছে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতি করছে না, এতিমের টাকা আত্মসাত করছে না। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাও মামলা করেনি, আওয়ামী লীগও করেনি। মামলা করেছে তার প্রিয় লোকেরাই। সেই মামলায় খালেদা জিয়া এখন জেলে।

এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে যারা মানুষ হিসেবে মনে করে না, তারা কিভাবে ধানের শীষে ভোট চায়! ধানের শীষ মানেই অগ্নিসন্ত্রাস, দুর্নীতি, এতিমের টাকা আত্মসাত।  আর নৌকা মানেই শান্তি, উন্নয়ন, অগ্রযাত্রা।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা উত্তরের নির্বাচনী আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন ও তাদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।সূত্র:সমকাল