সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

গতিযুদ্ধের সেমিফাইনাল

স্পোর্টস ডেক্সঃম্যাচটা গতির পরীক্ষাও বলা চলে। শুধু গোল দিয়ে এগিয়ে যাওয়া নয়। গতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করাও দেখা যেতে পারে। কোন দলের গোলরক্ষক সেরা। কিংবা রক্ষণে কারা বেশি এগিয়ে সেই লড়াইও হতে পারে। কার গতি বেশি-কিলিয়ান এমবাপ্পে, নাকি কেভিন ডি ব্রুইনির? সেমিফাইনালের আগে সারাবিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথম সেমিফাইনালে মঙ্গলবার দু’জনের যে কেউ ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন তাদের দুরন্ত গতি দিয়ে।

তবে শুধু এ দু’জনই নন, মঙ্গলবার পিটার্সবার্গের সবুজ জমিনে গতির ঝড় তুলতে পারেন আরও বেশ কয়েকজন। এমবাপ্পের পাশাপাশি ফ্রান্সের আন্তোনিও গ্রিজম্যান, পল পগবাও দুরন্ত গতির ফুটবলার। তবে দল হিসেবে দেখলে গতির বিচারে একটু হলেও এগিয়ে থাকবে বেলজিয়াম।

তাদের হয়তো এমবাপ্পের মতো এত সুপারসনিক গতির কেউ নেই। তবে কেভিন ডি ব্রুইনি, রোমেলু লুকালু ও এডেন হ্যাজার্ড-এ তিনজনই দারুণ গতি নিয়ে ফুটবল খেলেন। গতি, বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ, ফিনিশিং দক্ষতা এবং শারীরিক ফিটনেসের-প্যাকেজ ধরলে বেলজিয়ামের আক্রমণভাগ এগিয়েই থাকবে। 

তবে ফরাসি টিনএজার এমবাপ্পে যে কতটা ভয়ঙ্কর, সেটা দেখা গেছে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডে। আর্জেন্টিনার ডি-বক্সের সামনে গিয়ে কিংবদন্তি স্প্রিন্টার উসাইন বোল্টের মতো গতির ঝড় তোলেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমবাপ্পের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটিতেও দেখা গেছে দুরন্ত গতি। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল আর্জেন্টিনার বক্সের সামনে আসা মাত্র দুরন্ত গতিতে চোখের পলকে বল জালে পাঠিয়ে দেন এমবাপ্পে।

তবে বেলজিয়ামও পাল্টা আক্রমণে খুবই ভয়ঙ্কর। আর তাদের শক্তির জায়গা গতি। ব্রাজিলের রক্ষণভাগ সেটা পুরোপুরি টের পেয়েছে। দ্বিতীয় গোলটির সময় কাউন্টার অ্যাটাকে বল ডি ব্রুইনের কাছে আসামাত্র দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যান ব্রাজিলের সীমানায়। দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের বিপক্ষে তৃতীয় গোলটির সময়ও দেখা গেছে ডি ব্রুইনের বাধ ভাঙা গতি। 

বেলজিয়ামের অধিনায়ক এডেন হ্যাজার্ডের গতির কথাও আলাদাভাবে বলতে হবে। সে সঙ্গে তার আছে বলের ওপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ। ব্রাজিলের বিপক্ষে তিনি ১০ বার ড্রিবল করেছেন। একবারও তার কাছ থেকে বল কেড়ে নিতে পারেননি ব্রাজিলের ফুটবলাররা। ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম কোনো ফুটবলার ড্রিবলিংয়ে শতভাগ সফল ছিলেন। লুকালুর গতিও মারাত্মক। 

তবে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের নেতা গ্রিজম্যানের গতিও কিন্তু কম নয়। ফ্রান্সের আক্রমণভাগে আরও একজন গতি তারকা আছেন। তিনি হলেন বার্সেলোনার তরুণ উইঙ্গার উসমান ডেম্বেলে। বেলজিয়ানরা অবশ্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন এমবাপ্পেকে।

বেলজিয়ান ডিফেন্ডার ভারমেলেউনের মতে, ‘আমার কাছে কিলিয়ান এমবাপ্পে হলো ফ্রান্সের সেরা ফুটবলার। সে দুর্দান্ত গতিসম্পন্ন ফুটবলার। চোখের পলকে যে কোনো ম্যাচ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে সে।’ কে আজ গতির ঝড় তুলতে পারে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.