সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

পোক্ত হচ্ছে প্রশাসনে রাজনৈতিক নিয়োগ!

প্রশাসনে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগের পথ আরও পোক্ত করা হচ্ছে। এখন থেকে যে কোনো ব্যক্তিকে সরকারের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদে নিয়োগ দেয়া যাবে। রাষ্ট্রপতি তার বিশেষ এখতিয়ারে এ নিয়োগ দিতে পারবেন। এমন বিধান রেখে সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৭ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত আইনের খসড়া অনুমোদনের জন্য আজ অনুষ্ঠেয় প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপন করা হতে পারে। এজন্য বিষয়টি বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

খসড়া পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ‘রাষ্ট্রপতির বিশেষ এখতিয়ার’ শিরোনামে প্রস্তাবিত আইনের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে- ‘এই আইনের অন্যান্য বিধান, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতি, জনস্বার্থে, বিশেষ মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা ও অপরিহার্যতা বিবেচনা করিয়া, সরকারের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদসংখ্যার অনধিক ১০ শতাংশ পদে, উক্তপদে নিয়মিতভাবে নিয়োগযোগ্য কর্মচারীগণের বাহির হইতে, যে কোনো ব্যক্তিকে প্রেষণ বা চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ করিতে পারিবেন।’ এছাড়া অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মচারীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রস্তাবিত আইনের ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে- ‘রাষ্ট্রপতি, জনস্বার্থে, যে কোনো কর্মচারীকে, চাকরি হইতে অবসর গ্রহণের পর, প্রজাতন্ত্রের কর্মে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করিতে পারিবেন।’

প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির কোটায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্য থেকে সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। কিছু পদে রাজনৈতিক ব্যক্তিকেও নিয়োগের নজির রয়েছে। যে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগের বিধান প্রশাসনে দলীয়করণ আরও বৃদ্ধি পাবে। এটি কার্যকর হলে প্রশাসনের সর্বত্রই রাজনৈতিক ও পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হবে। প্রশাসনে দলীয় প্রভাব আরও জোরালো হবে। বাড়বে দলীয়করণ।

বিষয়টি সরকারের একটি অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ আখ্যা দিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এতে প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়বে। ভেঙে পড়বে প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড। মেধা ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সার্বিকভাবে দক্ষতার মান অবমূল্যায়ন হবে। দেশের জন্য এটি ইতিবাচক হবে না।’

প্রশাসন, আইন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. ফিরোজ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষমতা থাকার পরও রাষ্ট্রপতির বিশেষ এ এখতিয়ার প্রশাসনে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগকে উৎসাহিত করবে। এটা প্রশাসনের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনবে। যাকে খুশি তাকে এনে প্রশাসনে বসিয়ে দেয়া যাবে। এতে প্রশাসনের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ রাষ্ট্রপতিকে এ নিয়োগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে হবে। আর প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় তার দলের বাইরের কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগের পরামর্শ দেবেন না। এ প্রসঙ্গে প্রশাসনবিষয়ক কলামিস্ট ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়া যোগ্য ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান রয়েছে। এর বাইরে রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও সরকারের কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তবে এসব বিধান থাকলেও যত্রতত্র এর প্রয়োগ না হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। এ ধরনের নিয়োগ যত কম হবে ততই জনপ্রশাসনের জন্য মঙ্গল।

জানা গেছে, প্রায় একযুগ আগে প্রস্তাবিত এ আইনটি করার উদ্যোগ নিয়ে চার বার খসড়া তৈরি করা হয়। আইনের খসড়া বর্তমান সরকার আমলে সচিব কমিটি হয়ে মন্ত্রিসভায় দু’বার উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে মন্ত্রিসভায় একবার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। পরে পুনরায় এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হয়। কিন্তু সেটি অনুমোদন না দিয়ে অধিকতর পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়। এরপর খসড়ার ওপর প্রয়োজনীয় সংশোধন চূড়ান্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ চূড়ান্ত হওয়া খসড়া পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে কোনো কর্মচারীকে গ্রেফতারের প্রয়োজন হলে সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে। কোনো কর্মচারী দণ্ডিত হলে সরকারি চাকরি থাকবে কিনা, সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ৫নং আইনের অধীনে কোনো কর্মচারী দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হলে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে না- এটি বহাল রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।

এছাড়া সরকারি দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সরকারি কর্মচারী শারীরিকভাবে অক্ষম হলে বিধি অনুযায়ী যথোপযুক্ত পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও সুবিধা প্রদানের বিধান প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় সংযোজন করা হয়েছে। সরকারি সেবার জন্য কেউ আবেদন করলে নির্ধারি

Leave a Reply

Your email address will not be published.