সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ওসিসহ চার পুলিশ

নিউজ ডেস্ক : সড়ক দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে আন্দোলনকারী আহত এক শিক্ষার্থীকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতকড়া পরানোয় আশুলিয়া থানার ওসি-এসআইসহ চার পুলিশ সদস্য হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।

তলবের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (০৫ জুন) বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে হাজির হয়ে তারা এই ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। পরে আদালত তাদেরকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন। একইসঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। আদালতে ওসির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু।

এর আগে গত ৩১ মে ওসি মহসিনুল কাদের হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেদিন তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে জানিয়েছিলেন, ঘটনার সময় তিনি ওই জায়গায় দায়িত্বে ছিলেন না। মেডিকেল সেন্টারে তখন একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও দুজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আদালত ওই এসআই ও দুই কনস্টেবলসহ ওসিকে আগামী ৫ জুন ফের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী সোমবার তারা আদালতে হাজির হন।

আহত এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে গত ২৯ মে একটি ইংরেজি দৈনিকে “হ্যান্ডক্যাপড টু হসপিটাল বেড” এ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম রেজাউল করিম আমলে আনলে ওই দিনই হাইকোর্টের একই বেঞ্চ আশুলিয়া থানার ওসিকে তলব করেন।

পাশাপাশি আদালত রুলও জারি করেছেন। রুলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতকড়া পরানো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, ঢাকার পুলিশ সুপার ও আশুলিয়া থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ২৬ মে ভোর ৫টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সিঅ্যান্ডবি এলাকায় বাসের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলের মার্কেটিং বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান রানা ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আরাফাত নিহত হন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার হয় ৪২ শিক্ষার্থী। আহত হয় অনেকে। পরে অবশ্য ৪২ শিক্ষার্থীর জামিনও হয়।

পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন আহত হওয়ার পর তার বন্ধুরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করে। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে এনাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। যেখানে হাসপাতালের বেডের সাথে তার একহাতে হ্যান্ডকাপ পরানো হয়েছে। খাওয়ার সময় হ্যান্ডকাপ খুলে দিতে অনুরোধ করলেও পুলিশ তা খুলে দেয়নি। অসুস্থ অবস্থায় কাউকে হাতকড়া পরানো পুলিশ রেগুলেশন, বেঙ্গল এর ৩৩০ (এ) বিধানের লঙ্ঘন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.