সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

চালের দাম বাড়িয়ে অসাধুদের শুল্ক প্রত্যাহারের চেষ্টা : খাদ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : চালের দাম বাড়িয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
সচিবালয়ে বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য তিনি জানান।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চালের দাম বেড়েছে বলে মিডিয়ায় খবর আসছে। মিল মালিকদের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা জানতে আমরা বসেছিলাম। তাদের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক বক্তব্য পেয়েছি। তারা আমাদের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরেছেন যে, কোন সমস্যা নেই।’
তিনি বলেন, ‘এবার মোটা চালের দাম বৃদ্ধির মূল কারণটা হচ্ছে, গত বছর এই সময়ে ভারত থেকে আড়াই থেকে ৩ লাখ টন চাল এসেছে বিনা শুল্কে। এখন সরকার শুল্ক আরোপের পর এ বছর এই সময়ে ভারত থেকে চাল এনেছে ৩৭ হাজার টন।’
‘এক সময় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে ফ্রি স্টাইলে চাল আমদানি করত, যার ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। ট্যাক্স আরোপের ফলে কৃষককরা কিন্তু লাভবান হচ্ছে।’
কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পাইকারি বাজারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যভাবে চালের দাম বৃদ্ধি করেছে। এজন্য খুব বেশি প্রতিক্রিয়া হয়েছে, এটা আমি বলব না। অসাধু ব্যবসায়ী তারাই যারা মনে করছে, কোন রকম একটা অবস্থার সৃষ্টি করে যাতে শুল্কটা প্রত্যাহার করতে পারেন। কোন অবস্থায় শুল্ক প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না।’
চলতি অর্থবছরে চাল আমদানির ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়।
কৃষকরা লাভবান হচ্ছে, আমরা কৃষকদের লাভবান করতে চাই মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘দাম একটু বেশি থাকলে কৃষকরা লাভবান একটু বেশি হয়। কৃষকরা এখন অত্যন্ত খুশি, তারা লাভবান হচ্ছে। কাজেই কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে আমরা দেব না।’
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে চালের বাজার অত্যন্ত স্থিতিশীল আছে। আমন মৌসুমের শেষ সময়ে ও বোরো মৌসুমের শুরুতে দাম সবসময়ই একটু বাড়ে। লিঙ্ক পিরিয়ডে দাম বাড়াটাই স্বাভাবিক। তবে তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে।’
দুইমাস পর যখন বোরো সংগ্রহ শুরু হবে, বাজারে মোটা চালের অভাব থাকবে না’ বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী।
বর্তমানে ৯ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে জানিয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে চিকন চালের দাম খুব বেশি বাড়েনি। গত বছর এই সময়ে মোটা চালের দাম যে অবস্থায় ছিল, তা থেকে এখন ২ থেকে আড়াই টাকা বেশি আছে। পাইকারি বাজারে মোটা চালের দাম একটু বেশি বেড়েছিল, যেটা ৩৪ টাকা থেকে সাড়ে ৩৪ টাকা হয়ে গিয়েছিল সেটা এখন পাইকারি বাজারে আরেকটু কমে ৩৩ থেকে সাড়ে ৩৩ টাকা হয়েছে।’
সরকার ৩৩ টাকা দরে আমন চাল কিনছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার সিদ্ধান্ত ছিল আমরা ৩ লাখ টন আমন চাল কিনব, সম্ভব হলে বেশি কিনব। এই মুহূর্তে ৩ লাখ ২৬ হাজার টন আমন আমাদের ঘরে চলে এসেছে। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত আমন সংগ্রহ অভিযান চলবে। এখনও দৈনিক ৪০০ থেকে ৮০০ টনের চুক্তি হচ্ছে।’
চালের দাম যদি বেশি রকম বাড়তি থাকত, অসামাঞ্জস্য থাকত আমাদের রেটের সঙ্গে তাহলে মিল মালিকরা আমাদের ৩৩ টাকা দরে চাল দিতে পারত না’ বলেন খাদ্যমন্ত্রী।
বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মোটা চালের বাজার বেড়েছে এটা সত্য। যতটুকু বেড়েছিল তা থেকে আবার কেজিতে এক টাকা কমে গেছে। আমরা আশা করি নতুন করে আর চালের বাজার বাড়ার সম্ভাবনা নেই। দেশে পর্যাপ্ত চাল আছে। যে অবস্থায় গেছে তা স্থিতিশীল থাকবে ইনশাআল্লাহ।’
সভাপতি আরও বলেন, ‘পাইকারি দামে বাজার তেমন বাড়েনি। কিন্তু রিটেইলে কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে তারা সুযোগ-সুবিধা পেলে কেজিতে দু’এক টাকা বেশি নিয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.