সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

ঢাকায় তৈরি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর

নিউজ ডেস্ক : ঢাকায় তৈরি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৬ কোটি টাকা। তেজগাঁও এ জাদুঘর তৈরি সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেলে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জাদুঘর তৈরির কাজ শেষ করবে ওয়ার্কস ডাইরেকটরেট, ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ ব্রাঞ্চ, আর্মি হেডকোয়ার্টারস, ঢাকা সেনানিবাস।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং জনগণের বীরত্বের সুদীর্ঘ ইতিহাস ঐতিহ্য রয়েছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণের সাহসিকতা ও বীরত্বের সুগভীর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি সংগঠন সংস্থা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে জনগণের নিকট প্রকাশ ও প্রচারের প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে। জাতীয় জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের উপর ভিত্তি করে ১৯৮৭ সালে ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসে সেনাবাহিনী (মিলিটারি) জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়।
পরবর্তীতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র সকল বাহিনী তথা সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবদান প্রকাশের জন্য ঢাকাস্থ বিজয় সরণিতে সম্মিলিত সামরিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার প্রেক্ষিতে ১৯৯৭-৯৮ সালে মিলিটারি জাদুঘর বিজয় সরণিতে স্থানান্তর করা হয়।
মিলিটারি জাদুঘর আধুনিকায়নের জন্য ২০০৯ সালে নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সেনাবাহিনী প্রধানের নেতৃত্বে সকল সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ২০১০ সালে একটি আধুনিকায়ন কমিটি গঠন করা হয়। জাদুঘরটিকে একটি বিশ্বমানের জাদুঘর হিসেবে পুনঃনির্মাণ এবং বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর নামকরণের জন্য এই কমিটি সুপারিশ করে। জাদুঘরটি নিজস্ব ১০ একর জমিতে নির্মিত হবে।
প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, মূল জাদুঘর হবে ৮ তলা, ভৌত সুবিধাদি নির্মাণ, জেনারেটরসহ বহি:বিদ্যুৎ সরবরাহ, যন্ত্রপাতি ও সরহ্জাম সংগ্রহ, আসবাবপত্র ক্রয়, ভূমি উন্নয়ন, মৃত্তিকা পরীক্ষা এবং কনসালটেন্সি ইত্যাদি।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য জিয়াউল ইসলাম পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাস, ঐতিহ্য অর্জন, উন্নয়ন জনগণের কাছে তুলে ধওে আত্মমর্যাদাশীল ও আত্মবিশ্বাসী জাতি গঠনে অবদান রাখবে। প্রকল্পটি সরকারের উন্নয়ন নীতির আওতায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা দেশের উন্নয়নে পরোক্ষ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.