সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

৮ বছর পর আবার ক্ষমতায় আসার পর এক দশকে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পঁচাত্তরের পর বাংলাদেশের মানুষ অসহায় জীবন যাপন করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৯৬ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখন কিছু কাজ করেছি। যা মানুষের ভেতরে আস্থা তৈরী করেছে। ৮ বছর পর আবার ক্ষমতায় আসার পর এক দশকে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।

তিনি বলেন, বিশ্বে এডিবির রিপোর্ট অনুযায়ী আমাদের স্থান এখন ১৩ তম অর্থনীতির দেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বৃহত্তম। বিশ্বে আমরা ৩০তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছি। ইনশা্ল্লআহ আরও পারব। সারাবিশ্বে আমরা অবস্থান করে নিয়েছি। আমরা এখন ৮ দশমিক ১ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। মাত্র ১০ বছরে এই অর্জনগুলি করতে পেরেছি। কারণ আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের কল্যাণে কাজ করেছি।

বাংলাদেশের উন্নতি অনেকেই পছন্দ করতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পচাঁত্তরে যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছিল, বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে চেয়েছিল তারাই চক্রান্ত করে যাচ্ছে। করেই যাবে।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলি সুন্দরভাবে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে আজকে প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিজ নিজ অধিকার নিয়ে সুন্দরভাবে বসবাস করছে। আমাদের পুলিশবাহিনীসহ আইনশৃঙখলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা দিনরাত পরিশ্রম করে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। অথচ বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাস করে ২৬ জন পুলিশকে হত্যা করেছে। ৫শ মানুষকে তারা পুড়িয়ে মেরেছে। প্রত্যেকটা অনুষ্ঠান যাতে ভালভাবে নিরাপদে হয় সেই ব্যবস্থা পুলিশ করেছে। ঈদের নামায থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে তারা আমাদেরকে নিরাপত্তা দেয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ডেঙ্গু ও এডিশ মশার বিস্তার থেকে রক্ষা পেতে আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। এডিশ মশার প্রজনন কিভাবে বন্ধ করা যায় আর যেন লার্ভা তৈরী না হয় সেদিকে নজর দিচ্ছি। ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সিঙ্গাপুরে গেছে। সেখান থেকে বারবার ছবি পাঠাচ্ছে। দেখছে। উত্তরের মেয়র ঘরে ঘরে কোথায় ময়লা-আবর্জনা আছে কি না, তা দেখতে গিয়ে আচার খেয়ে পড়ে গিয়ে তার পা টাই ভেঙ্গে গেছে। অবশ্য একজন বিত্তশালীর বাড়িতে গিয়ে, সাধারণ কোনো মানুষের বাড়িতে গিয়ে নয়। কাজেই তারা ওপর দিয়ে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট। এদিকে দামী দামী গাড়ি, চকচকে বাড়ি। ভেতরে গেলে ময়লা-আবর্জনা। এই হল অবস্থা। তবে আমরা মশা মারার ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু আপনাদের নিজে নিজেদেরকে সুরক্ষিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল। এখন সেটা নেই। শিক্ষা ব্যবস্থায় যেন উন্নতি হয়, বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেসব ব্যবস্থা নিতে হয়, আমরা সেসব করছি। উচ্চ শিক্ষার জন্য বৃত্তি দিচ্ছি। বর্তমানে আমরা ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দিচ্ছি। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ২৬ টাকা কিনে ৩ থেকে ৪ টাকায় গ্রাহকদের দিচ্ছি। ৬০ টাকায় এলএনজি আমদানী করে তা ১২ টাকায় দিচ্ছি। অর্থাৎ আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। তারপরও অনেকেই তা সমালোচনা করছে। তারা দাম কমানোর জন্য আন্দোলন করছে।

এমপিদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি এলাকায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প দেয়া হয়েছে। উন্নয়নের কাজ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকে যদি নিজেরা দেখে সেই কাজগুলি সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা একটু নজর দেয়া দরকার। তাহলে দেখবেন কাজগুলি সুন্দর ও সুচারুভাবে হচ্ছে। দেশের উন্নয়নটাও ত্বরান্বিত হচ্ছে। কাজেই মানুষের মঙ্গল করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।