সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

প্রতিশ্রুতি দেয়ার দীর্ঘ ১০ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি দেশের প্রতিটি বিদ্যালয় ও হাসপাতালে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ

প্রতিশ্রুতি দেয়ার দীর্ঘ ১০ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি দেশের প্রতিটি বিদ্যালয় ও হাসপাতালে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ। শিশুদের মেধা ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে এই নিয়োগ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। কিছু শিশু হাসপাতালে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগদান করা হলেও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (হু) প্রণীত এক আঞ্চলিক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের শতকরা ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু মানসিক রোগে ভুগছে।

জাতীয় পর্যায়ের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হতাশা ও উদ্বিগ্নতায় যথাক্রমে আক্রান্ত রয়েছে দেশের ৪ দশমিক ৫ ও ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ।

২০০৯ সালের ২ আগস্ট নবম সংসদ চলাকালীন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন এক প্রশ্নোত্তর পর্বে শিশু মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের বিষয়টি উত্থাপন করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি বিদ্যালয় ও হাসপাতালে শিশু মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিশ্রুতির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ছাড়াও দেশের ১৫টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র চালু করা হয়। সেখানে একজন শিশু মনোবিজ্ঞানীও নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের জন্য ন্যাশনাল প্লান ফর মেনটাল হেলথ অ্যান্ড সাইকোলজিক্যাল সোশ্যাল সাপোর্ট শীর্ষক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এ সংক্রান্ত একটি কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক সভা করেছে। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মাঝে কিছুটা সময় কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এ কাজ বাস্তবায়ন করতে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রয়োজন।

মনো চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর দেড় থেকে দুই হাজার মনোবিজ্ঞানী তৈরি হচ্ছে। অথচ পেশায় টিকে থাকছে ৫০ জনের মতো। ব্যবহারিক জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির ক্ষেত্র না থাকায় ও কর্মক্ষেত্র তৈরি না হওয়ায় লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে প্রতি বছর বেশির ভাগ মনোবিজ্ঞানী ঝরে পড়ছে। বর্তমানে সব বিভাগ মিলে ৩০ হাজারের ওপরে মনোবিজ্ঞানী রয়েছে।

ভিকারুন্নিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থী অরিত্রীসহ আরও কিছু ঘটনা উল্লেখ করে সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ওই মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের কাছে। তিনি বলেন, আমরা এমনভাবে এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছি, যাতে করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন মনোবিজ্ঞানী একজন শেয়ারিং পার্সন হিসেবে থাকবেন। যাতে করে পারিবারিক বা সামাজিক বা যে কোনো সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থী তার সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান খুঁজে পান।