সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

মাদক কারবারী ইউসুফ ইয়াবাসহ গ্রেফতার (৩ কি.মি. জুড়ে ব্যারিকেড)

স্টাফ রিপোর্টার,মুন্সীগঞ্জ:মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের আলোচিত অবৈধ অস্ত্র ও মাদক কারবারী ইউসুফ হাসান ওরফে ইউসুফ ফকিরকে (৪০) মাদকসহ র‌্যাব-১১ গ্রেফতার করেছে। তাকে আটকের পর সহযোগীরা প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক জুড়ে গাছ, সিমেন্টের খুঁটিসহ নানা কিছু ফেলে এবং পাটখড়ি স্থুপে আগুন ধরিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার এই ঘটনায় এতসব বাঁধা উপেক্ষা করে ইউসুফ ফকিরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব ক্যাম্পে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। রাত পৌনে ১টায় এই রিপোর্ট লেখার সময় ইউসুফ ফকিরকে শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকূলে র‌্যাব-১১ ক্যাম্পে জিঞ্জাবাদ এবং তার দেয়া তথ্যমতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রস্তুতিও চলছিল।
সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুরে গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৫ মামলার আসামী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রার্থী ইউসুফ হাসানকে পাকড়াও করে র‌্যাব-১১। তার কাছ থেকে ৪০৫ পিস ইয়াবা, ২ বোতল বিয়ার, মাদক বিক্রির ৬ লাখ ৮ হাজার ২ শ’ টাকার উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী মিল্টন মল্লিক, জাহাঙ্গীর সরকারসহ ৭/৮ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ইউসুফ হাসান মহেশপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়া ফকিরের পুত্র।
র‌্যাব-১১’র কমান্ডার পুলিশ সুপার মোঃ এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, চরাঞ্চলের মাদক ব্যবাসায়ী এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী কয়েক মামলার আসামী ইউসুফ ফকিরের মহেশপুরের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সময় তাকে মাদক ও মাদক বিক্রির টাকাসহ আটক করা । তবে সহযোগী দীর্ঘ পথ জুড়ে তাকে ছাড়িয়ে নিতে নানা তান্ডপ চালায়। তিন কিলোমিটার সড়কে অন্তত ২০টি পয়েন্টে পাশের গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে, আগের কাটা গাছের গুলি ফেলে ব্যারিকেড দেয়। সিমেন্টের খুঁটিসহ নানা কিছু ফেলে রাস্তা বন্ধ করার অপচেষ্টা চালায়। জায়গায় জায়গায় পাটখড়ি ফেলে অগ্নিসংযোগ করে র‌্যাবের পথ রোধ করার চেষ্টা করে। এমনকি নারীরা র‌্যাব সদস্যদের ঘেরাও করার চেষ্টা করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সব বাধা অতিক্রম করে ইউসুফ হাসানকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে র‌্যাব-১১। তিনি জানান, এখন তার দেওয়া তথ্য মতে অসস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চলছে।
এদিকে খবর পেয়ে রাতেই সদর থানা পুলিশের একাধিক টিম মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর ও আশপাশ গ্রামে অবস্থান নেয়। গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, ইউসুফ হাসানকে গ্রেফতার করার পরপরই তার সহযোগীরা একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। র‌্যাব এলাকায় অবস্থান করার সময় পুরুষরা নিরাপদ দুরত্বে থাকলেও মহিলাদের আসামী ভাগিয়ে নেওয়ার তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল খন্দকার আশফাকুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে রাতেই সদর থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌছে। মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর ও আশপাশের গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিচুর রহমান জানান, ইউসুফ ফকিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকসহ অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে।