সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

মুন্সীগঞ্জে প্রি-পেইড মিটার বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

পল্লী বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে মুন্সীগঞ্জ শহরে মানববন্ধনের একাংশ।                                                                                    -সভ্যতার আলো

স্টাফ রিপোর্টার
মুন্সীগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিটাল প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। শহরের পুরাতন কাচারী এলাকায় সোমবার বেলা ১১ টা থেকে ১২টা পর্যন্ত প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। মুন্সীগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে করা এ মানববন্ধন থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে সকল প্রি-পেইড মিটার খুলে নিয়ে পূর্বের মিটার প্রতিস্থাপনের দাবি জানানো হয়। এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর কর্মসূচিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর মোঃ ফারহাদ হোসেন আবিরের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে উদীচীর সাধারণ সম্পাদক নারী নেত্রী হামিদা খাতুনসহ জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করছে। বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন সকল বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানীর বিদ্যুতের সিস্টেম লস হ্রাসকরণ, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ত্রæটিপূর্ণ বিলিং ব্যবস্থ্ াপরিহারের মাধ্যমে গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন, লোড ম্যানেজমেন্ট বাস্তবায়ন ও জনগণের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী মনোভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপি সকল বিদ্যুৎ মিটার প্রি-পেইড মিটারে পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনও অর্থ আদায় করা হয় না। সিঙ্গেল ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা ও থ্রি-ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ২৫০ টাকা হিসেবে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে আদায় করতে হবে। গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের জন্য নির্ধারিত ভাড়া প্রতি মাসের প্রথমবার মিটার চার্জের সময় পরিশোধ করবে।

প্রি-পেইড মিটার যেন এখন মানুষের বোঝায় পরিনত হয়েছে। এই মিটারের অতিরিক্ত টাকা কর্তনের কারণে গ্রাহক এখন চরম বিরক্ত। জেলা তথ্য অফিসার মো. মনির হোসেন বলেন, তিনি তার বাসার প্রি-পেইড মিটারে এক হাজার টাকা ভরেছেন। একটু পরেই দেখেন  অবশিষ্ট আছে ৭শ’ টাকা। এসব বিষয়ে বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ নানা রকমের ব্যাখা প্রদান করলেও গ্রাহক কোনভাবেই বিষয়টি গ্রহণযোগ্য মনে করছে না। আগের সিস্টেমকে কেন বাতিল করে মানুষের ওপর এই চাপ?  প্রশ্ন গ্রাহকদের। গ্রাহকরা পুরনো মিটারেরই ফিরে যেতে ইচ্ছুক।

এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানিয়েছেন, সমস্যাটি গোটা দেশেরই কমন সমস্যা। এটি কিভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অবহিত করা হবে। যাতে মানুষের কোন সমস্যা না হয়।