সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

মেট্টোরেলের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ট্রেন সংযোজন করবে সরকার

নিউজ ডেস্ক : মেট্টোরেলের পাশাপাশি বাংলাদেশ রেলওয়েতে বৈদ্যুতিক ট্রেন সার্ভিস চালু করবে সরকার। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ইলেকট্রিক ট্রাকশন (ওভারহেড ক্যাটেনারি ও সাবস্টেশন নির্মাণসহ) প্রবর্তনের জন্য একটি সমীক্ষা প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। সমীক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন শেষে সমীক্ষা প্রতিবেদনের আলোকে নারায়ণগঞ্জ হতে ঢাকা হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত ইলেকট্রিক ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক। তিনি জানান, গত বছরের ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যায়ক্রমে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর অংশ হিসেবে গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জ বৈদ্যুতিক ট্রেন প্রথম চালু করতে হবে মর্মে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

 

সরকার দলীয় অপর সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েতে মোট ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের রেলপথের জন্য একটি করে টিম রয়েছে, যা গ্যাং নামে পরিচিত। প্রত্যেকটি গ্যাংয়ে একজন মেট, একজন কি-ম্যান ও রেলপথের ট্র্যাক কিলোমিটার অনুসারে রেলওয়ের ওয়ে এ্যান্ড ওয়ার্কস ম্যানুয়েল অনুযায়ী গ্যাং ম্যানের সংখ্যা নির্ধারণ করা আছে। এই গ্যাংসমূহ প্রতিনিয়ত রেলপথ পর্যবেক্ষণ করে থাকেন।

 

তিনি জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েতে অরক্ষিত রেলপথ নেই। ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার বিস্তৃত রেলপথে সাধারণ জনগণ অসতর্কভাবে রেল লাইন পারাপার এবং অবৈধ ও আনম্যান্ড লেভেল ক্রসিং গেটসমূহে সাধারণ জনগণ ও সড়ক যানবাহন অসতর্কভাবে পারাপারের ফলে কোন কোন সময় দূর্ঘটনা সংগঠিত হয়ে থাকে।

 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি সেবামূলক সংস্থা। দেশের আপামর জনসাধারণকে স্বল্পমূল্যে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যমূলক পরিবহণ সেবা প্রদানের উদ্দেশ্য নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৪৪ জেলা রেলওয়ের নেটওয়ার্কের আওতাভূক্ত। অবশিষ্ট জেলাগুলোকে পর্যায়ক্রমে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত গত ৮ বছরে ১ হাজার ৯১ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন, ২৪৩ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং প্রায় ২৪৯ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ লাইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এছাড়া তারাকান্দি হতে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার নতুন রেললাইন স্থাপনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং ট্রেন চলাচল করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.