সভ্যতার আলো

সভ্যতার আলো, তার লিখনী দিয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সভ্য জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে

বিমানের তিন কর্মকর্তা তৃতীয় দফায় রিমান্ডে

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে মানবসৃষ্ট ত্রুটির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিমানের প্রকৌশলীসহ তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবার রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এরা হলেন- ইঞ্জিনিয়ার অফিসার নাজমুল হক, টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান এবং জুনিয়র টেকনিশিয়ান শাহ আলম। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী শুনানি শেষে প্রত্যেকের তৃতীয় দফায় এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে রিমান্ড শুনানি উপলক্ষ্যে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ইন্সপেক্টর মাহবুবুল আলম আসামিদের হেফাজতে নিয়ে ৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।

আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই দফায় বিভিন্ন মেয়াদে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সিদ্দিকুর রহমানকে দুই দফায় ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে গত ১২ জানুয়ারি এবং নাজমুল ও শাহ আলমকে দুই দফায় ১২ দিন রিমান্ড শেষে গত ২৪ জানুয়ারি এবং কারাগারে পাঠান হয়।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জন কারাগারে আছেন। অন্যরা হলেন- বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রোডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স) এস এ সিদ্দিক ও প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এস এম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস এবং জাকির হোসাইন। এরাও দুই দফায় রিমান্ডে ছিলেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বুদাপেস্ট সফরের জন্য বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজটি ঠিক করা হয়। আসামিরা বাংলাদেশ বিমানের প্রকৌশল বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তা। তাদের উপর এই উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল। আগের দিন উড়োজাহাজ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তারা রক্ষণাবেক্ষণ করেন।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর সকাল ৯টায় ওই উড়োজাহাজ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। অনুমানিক দুই ঘণ্টা ২৮ মিনিট উড়ার পর পাইলট ইঞ্জিনে তেল কমার লক্ষণ দেখতে পান। তেল কমতে কমতে বাংলাদেশ সময় ১টা ৫৮ মিনিটে ইঞ্জিনে তেলের চাপ লিমিটের নিচে নেমে আসায় উড়োজাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই জরুরি ভিত্তিতে পাইলট তুর্কিমিনিস্তানের রাজধানীতে অবতরণ করতে বাধ্য হন।

পরে বাম পাশের ইঞ্জিনের কাইরলং খোলা হলে ওয়েল প্রেসারের বি-নাট ঢিলা পাওয়া যায়। অন্য একটি উড়োজাহাজ পাঠিয়ে তার সফরসঙ্গীদের হাঙ্গেরি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হলেও ত্রুটি সারিয়ে মেরামতের পরে ওই উড়োজাহাজেই প্রধানমন্ত্রী হাঙ্গেরী যান।

ইঞ্জিন অয়েলের ট্যাংকের নাট ঢিলে হওয়ার পেছনে নাশকতা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে বিমান মন্ত্রণালয় ২৮ নভেম্বর পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আরও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত শেষে ওই কমিটি গত ১৮ ডিসেম্বর তাদের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। বিভাগীয় তদন্তে ওই নয়জনের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি নিয়ে অবহেলামূলক আচরণ করতঃ অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করার বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.